মূল কনটেন্টে যান
NShamimPRO Marketing through AI: ইতিহাস শুরু এখানেই

E-E-A-T কী? ব্লগে অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা দেখাবেন কীভাবে

সাজানো বইয়ের স্তূপের ওপর সোনালি সম্মাননা ব্যাজ, পাশে চাবি আর পাতার ডাল
এই লেখায় যা আছে (১৮)
  1. E-E-A-T এর চারটি অংশ মানে কী?
  2. E-E-A-T কি Google এর র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর?
  3. YMYL বিষয়ে আলাদা সতর্কতা
  4. Helpful content বলতে Google কী বোঝায়? Who, How, Why
  5. ব্লগে অভিজ্ঞতা দেখাবেন কীভাবে?
  6. Author bio, About পেজ আর author স্কিমা কীভাবে সাজাবেন?
  7. লেখক পরিচিতি (author bio)
  8. About পেজ
  9. Author স্কিমা
  10. E-E-A-T নিয়ে সাধারণ ভুল
  11. উদাহরণ: একটা রিভিউ পোস্টের আগে আর পরে
  12. এরপর কী করবেন
  13. সচরাচর জিজ্ঞাসা
  14. ছোট ব্যক্তিগত ব্লগেও কি E-E-A-T দরকার?
  15. লেখক ছদ্মনামে লিখলে কি সমস্যা?
  16. Quality Rater Guidelines কোথায় পাব?
  17. E-E-A-T বাড়াতে কত দিন লাগে?
  18. তথ্যসূত্র

সংক্ষেপে: E-E-A-T মানে Experience (অভিজ্ঞতা), Expertise (দক্ষতা), Authoritativeness (কর্তৃত্ব) আর Trust (বিশ্বাসযোগ্যতা)। এটা Google এর কোয়ালিটি রেটারদের মূল্যায়ন কাঠামো, সরাসরি কোনো র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর নয়। তবে Google এর সিস্টেম এমন সংকেত খোঁজে যা ভালো E-E-A-T এর সাথে মেলে। ব্লগে এটা দেখানো যায় আসল লেখক পরিচিতি, নিজের করা কাজের প্রমাণ, উৎস আর সৎ About পেজ দিয়ে।

E-E-A-T এর চারটি অংশ মানে কী?

E-E-A-T এসেছে Google এর Search Quality Rater Guidelines থেকে, যা দিয়ে মানুষ রেটাররা সার্চ ফলাফলের মান যাচাই করেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আগের E-A-T এর সাথে Experience যোগ হয়, আর Google জানায় এই চারটির কেন্দ্রে আছে Trust।

অংশ প্রশ্ন ব্লগে দৃশ্যমান সংকেতের উদাহরণ
Experience (অভিজ্ঞতা) লেখক কি বিষয়টা নিজে ব্যবহার, ভ্রমণ বা করে দেখেছেন? নিজের তোলা ছবি, নিজের মাপা সংখ্যা, কী কাজ করেনি তার বিবরণ
Expertise (দক্ষতা) লেখকের কি এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান বা প্রশিক্ষণ আছে? লেখক পরিচিতিতে প্রাসঙ্গিক পড়াশোনা বা কাজের অভিজ্ঞতা, নির্ভুল ব্যাখ্যা
Authoritativeness (কর্তৃত্ব) এই বিষয়ে অন্যরা কি লেখক বা সাইটকে উৎস হিসেবে চেনে? অন্য সাইটের রেফারেন্স, উল্লেখ, ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিতি
Trust (বিশ্বাসযোগ্যতা) পেজটা কি নির্ভুল, সৎ, নিরাপদ আর স্বচ্ছ? উৎসের লিংক, হালনাগাদের তারিখ, আসল যোগাযোগের তথ্য, অ্যাফিলিয়েট লিংকের ঘোষণা

Google এর ভাষায়, চারটির মধ্যে Trust সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; বাকিগুলো বিশ্বাস তৈরিতে অবদান রাখে, কিন্তু প্রতিটা কনটেন্টে চারটাই দেখাতে হবে এমন নয়। একজন মা শিশুর ঘুম নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা লিখলে তার ডাক্তারি ডিগ্রি দরকার নেই, কিন্তু ওষুধের ডোজ নিয়ে লিখলে দরকার।

লাইব্রেরিতে বইয়ে ঠাসা লম্বা তাকের সারি, অভিজ্ঞতা আর দক্ষতার ওপর গড়ে ওঠা বিশ্বাসযোগ্য জ্ঞানের প্রতীক

E-E-A-T কি Google এর র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর?

সরাসরি না। Google এর helpful content গাইডে লেখা আছে, E-E-A-T নিজে কোনো নির্দিষ্ট র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর নয়, তবে ভালো E-E-A-T বোঝাতে পারে এমন বিভিন্ন ফ্যাক্টরের মিশ্রণ ব্যবহার করা কাজের (Google Search Central, helpful content গাইড)। SEO Starter Guide এ “E-E-A-T কি র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর” প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট “না” লেখা।

রেটারদের ভূমিকাও ভুল বোঝা হয়। Google বলছে রেটারদের ডেটা সরাসরি র‍্যাংকিং অ্যালগরিদমে ব্যবহার হয় না; রেস্টুরেন্ট যেমন গ্রাহকের ফিডব্যাক কার্ড দেখে, তেমনি এটা দিয়ে তারা যাচাই করে সিস্টেম ঠিক কাজ করছে কিনা। তাই “author bio যোগ করলাম, এখন র‍্যাংক বাড়বে” এমন সরল হিসাব কাজ করে না। লেখক পরিচিতি পাঠকের বিশ্বাস বাড়ায়; র‍্যাংকিংয়ের লাভ আসে পুরো কনটেন্ট আর সাইটের মান থেকে।

YMYL বিষয়ে আলাদা সতর্কতা

YMYL (Your Money or Your Life) হলো এমন বিষয় যা মানুষের স্বাস্থ্য, আর্থিক অবস্থা বা নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। Google বলছে এসব বিষয়ে তাদের সিস্টেম শক্ত E-E-A-T এর কনটেন্টকে বেশি গুরুত্ব দেয়। স্বাস্থ্য, ওষুধ, বিনিয়োগ, ট্যাক্স বা আইন নিয়ে লিখলে যোগ্য লেখক বা রিভিউয়ার আর প্রাথমিক উৎস ছাড়া লেখা ঝুঁকিপূর্ণ।

Helpful content বলতে Google কী বোঝায়? Who, How, Why

Google নিজের কনটেন্ট যাচাইয়ের জন্য তিনটা প্রশ্ন দেয়:

  • Who (কে লিখেছে): পাঠক কি সহজে বুঝতে পারেন কে লিখেছেন? Google যেখানে পাঠক আশা করেন সেখানে নির্ভুল লেখক তথ্য আর বাইলাইন দিতে জোর দিয়ে উৎসাহিত করে।
  • How (কীভাবে বানানো): পণ্য টেস্ট করলে কতগুলো, কীভাবে, কী ফল, সেটা দেখানো। AI বা অটোমেশন ব্যবহার করলে কোথায় কীভাবে, সেই প্রেক্ষাপট দেওয়া।
  • Why (কেন বানানো): মূল উদ্দেশ্য কি মানুষকে সাহায্য করা, নাকি শুধু সার্চ ট্রাফিক টানা? দ্বিতীয়টা হলে Google এর ভাষায় সেটা তারা যা পুরস্কৃত করতে চায় তার সাথে মেলে না।

AI দিয়ে লেখা নিয়ে যাদের প্রশ্ন আছে, Google এর অবস্থান বিস্তারিত পাবেন AI কনটেন্ট কি Google এ র‍্যাংক করে লেখায়। সংক্ষেপে, কনটেন্ট কীভাবে বানানো তার চেয়ে মান আর উদ্দেশ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ব্লগে অভিজ্ঞতা দেখাবেন কীভাবে?

অভিজ্ঞতা দেখানো মানে “আমি ১০ বছরের অভিজ্ঞ” লেখা নয়, বরং লেখার ভেতরে প্রমাণ রাখা যা শুধু কাজটা করলেই পাওয়া যায়:

  1. নিজের তোলা ছবি বা স্ক্রিনশট: স্টক ছবির বদলে আপনার ডেস্কে রাখা পণ্যটা, বা আপনার অ্যাকাউন্টের সেটিং পেজ।
  2. নির্দিষ্ট সংখ্যা আর শর্ত: “ব্যাটারি ভালো” নয়, “স্ক্রিন ৫০% উজ্জ্বলতায় ভিডিও চালিয়ে কত ঘণ্টা টিকল”।
  3. কী কাজ করেনি: কোন ধাপে আটকেছিলেন, কোন সেটিং ভুল ছিল। এটা AI দিয়ে বানানো সাধারণ লেখা থেকে আপনার লেখাকে আলাদা করে।
  4. সীমাবদ্ধতা স্বীকার: “আমি শুধু Android এ পরীক্ষা করেছি” ধরনের লাইন বিশ্বাস কমায় না, বাড়ায়।

সবচেয়ে বড় নিয়ম: যা করেননি তা করেছেন বলে লিখবেন না। বানানো অভিজ্ঞতা, ভুয়া রিভিউ বা কাল্পনিক লেখক Trust ভেঙে দেয়, আর ধরা পড়লে সাইটের পুরো সুনামের ক্ষতি হয়। অ্যাফিলিয়েট রিভিউতে এটা কীভাবে প্রয়োগ করবেন, তা আছে অ্যাফিলিয়েট রিভিউ আর্টিকেল লেখার গাইডে।

ট্রাইপডে বসানো স্মার্টফোনে কিছু রেকর্ড করা হচ্ছে, নিজে পরীক্ষা করার ছবি আর ভিডিও প্রমাণ হিসেবে রাখার মতো

Author bio, About পেজ আর author স্কিমা কীভাবে সাজাবেন?

লেখক পরিচিতি (author bio)

প্রতিটা পোস্টে লেখকের নাম, যেটা ক্লিক করলে লেখকের নিজস্ব পেজে যায়। সেই পেজে ২ থেকে ৪ লাইনে বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত পরিচয়: কী নিয়ে কাজ করেন, কত দিন, কোন সাইট বা প্রতিষ্ঠানে আগে লিখেছেন, আর যাচাই করা যায় এমন প্রোফাইল (LinkedIn ইত্যাদি)। “প্যাশনেট ব্লগার” ধরনের ফাঁকা বিশেষণ বাদ দিন।

About পেজ

About পেজে থাকা উচিত সাইটটা কে চালায়, কেন, কীভাবে কনটেন্ট বানানো ও যাচাই হয়, আয়ের উৎস (বিজ্ঞাপন, অ্যাফিলিয়েট), আর আসল যোগাযোগের উপায়। ভুল তথ্য পেলে কীভাবে সংশোধন হয়, সেটা লিখে রাখাও Trust বাড়ায়।

Author স্কিমা

Article স্ট্রাকচার্ড ডেটায় author.name এ শুধু নাম দিন (পদবি বা “ড.” ধরনের প্রিফিক্স নয়), আর author.url দিয়ে লেখকের পেজের লিংক দিন। একাধিক লেখক হলে প্রত্যেককে আলাদা author হিসেবে দিন। Rank Math বা Yoast এর বেশিরভাগ সেটআপে এটা WordPress এর ইউজার প্রোফাইল থেকে আসে, তাই প্রতিটা লেখকের প্রোফাইল পূর্ণ করুন।

NShamimPRO এর E-E-A-T কোর্সে আমরা বর্তমান সাইটের E-E-A-T মূল্যায়ন, About Us পেজ উন্নত করা, author স্কিমা আর একাধিক লেখক যোগ করার কাজ আলাদা ভিডিওতে ধাপে ধাপে দেখাই।

E-E-A-T নিয়ে সাধারণ ভুল

  • “Expert reviewed” ব্যাজ, কিন্তু কোনো রিভিউয়ার নেই: রিভিউয়ারের নাম, যোগ্যতা আর পেজ না থাকলে এটা শুধু সাজসজ্জা, আর ধরা পড়লে বিশ্বাস নষ্ট করে।
  • শুধু তারিখ বদলে “আপডেটেড” দেখানো: লেখায় কিছু না বদলে তারিখ বদলানো পাঠককে বিভ্রান্ত করে। সত্যিই হালনাগাদ করলে কী বদলেছে তা এক লাইনে লিখুন।
  • AI দিয়ে বানানো লেখক চরিত্র: কাল্পনিক নাম, AI ছবি আর বানানো ডিগ্রি সরাসরি Trust এর বিপরীত।
  • যোগাযোগের তথ্য যা আসল নয়: যে ঠিকানা বা ফোন নম্বরে কেউ সাড়া দেয় না, তা না দেওয়াই ভালো। একটা কাজ করা ইমেইল আর কন্টাক্ট ফর্ম যথেষ্ট।
  • লেখক পরিচিতিতে কিওয়ার্ড ঠাসা: বায়ো লেখা হয় পাঠকের জন্য, সার্চ ইঞ্জিনের জন্য নয়।

উদাহরণ: একটা রিভিউ পোস্টের আগে আর পরে

নিচেরটা বানানো উদাহরণ। “বাজেট রাইস কুকার রিভিউ” পোস্টের প্রথম খসড়ায় ছিল: “Admin” নামে লেখক, প্রস্তুতকারকের ছবি, Amazon এর বর্ণনা থেকে নেওয়া ফিচার তালিকা, আর “সেরা” শব্দ বারবার।

সংশোধিত সংস্করণে: লেখকের আসল নাম আর পেজ; লেখক তিনটি কুকার কিনে দুই সপ্তাহ ব্যবহার করেছেন, সেই ছবি; প্রতিটায় ২ কাপ চাল রাঁধতে কত মিনিট লাগল তার টেবিল; একটার ঢাকনার রাবার এক সপ্তাহে ঢিলা হয়ে যাওয়ার বিবরণ; শুরুতে অ্যাফিলিয়েট লিংকের ঘোষণা; আর শেষে “কাদের জন্য এটা নয়” অংশ। দ্বিতীয় সংস্করণে কোনো SEO কৌশল যোগ হয়নি, শুধু কাজটা সত্যিই করা হয়েছে এবং সেটা দেখানো হয়েছে।

এরপর কী করবেন

  1. সাইটের সবচেয়ে বেশি ট্রাফিকের ৩টি পোস্ট খুলে দেখুন: লেখকের নাম আছে কি, নিজের অভিজ্ঞতার অন্তত একটা প্রমাণ আছে কি, উৎস লিংক আছে কি।
  2. About পেজে আয়ের উৎস, কনটেন্ট বানানোর প্রক্রিয়া আর আসল যোগাযোগের তথ্য যোগ করুন।
  3. প্রতিটা লেখকের WordPress প্রোফাইল পূর্ণ করে লেখক পেজ চালু করুন।
  4. অন্য সাইট আপনাকে রেফারেন্স দিলে কর্তৃত্ব বাড়ে; সেটা কীভাবে বোঝা যায়, তা আছে ব্যাকলিংক কী লেখায়।
  5. পুরো সাইটের মূল্যায়ন আর পরিকল্পনা ধাপে ধাপে করতে NShamimPRO এর E-E-A-T কোর্সটা দেখতে পারেন, আর চেকলিস্ট পাবেন ফ্রি রিসোর্স পেজে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

ছোট ব্যক্তিগত ব্লগেও কি E-E-A-T দরকার?

হ্যাঁ, তবে ভিন্নভাবে। ব্যক্তিগত ব্লগে বড় ডিগ্রির চেয়ে নিজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ আর সততাই সবচেয়ে বড় সংকেত। শখের বিষয়ে লেখা ব্লগে লেখকের আসল নাম আর নিজের ছবি বা ডেটা অনেক কিছু বলে দেয়।

লেখক ছদ্মনামে লিখলে কি সমস্যা?

ছদ্মনাম নিজে নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু পাঠক আর Google কারও কাছেই সেটা যাচাই করা যায় না। YMYL বিষয়ে যাচাইযোগ্য আসল লেখক বা রিভিউয়ার রাখাই নিরাপদ, আর বানানো চরিত্রের ছবি বা ভুয়া পরিচয় কখনোই দেবেন না।

Quality Rater Guidelines কোথায় পাব?

Google এটা PDF আকারে প্রকাশ করে, আর সময়ে সময়ে হালনাগাদ করে। লিংকটা তথ্যসূত্রে দেওয়া আছে; পড়ার সময় মনে রাখবেন এটা রেটারদের নির্দেশিকা, অ্যালগরিদমের বিবরণ নয়।

E-E-A-T বাড়াতে কত দিন লাগে?

নির্দিষ্ট সময় নেই। লেখক পেজ বা About পেজ এক দিনে ঠিক করা যায়, কিন্তু কর্তৃত্ব আর পরিচিতি আসে মাসের পর মাস ধারাবাহিক ভালো কাজ থেকে। Google এর সিস্টেম কবে কোন পরিবর্তন ধরবে, তা আগে থেকে বলা যায় না।

তথ্যসূত্র

বিষয়: SEO Challenges