টেকনিক্যাল SEO কী? নতুনদের জন্য ১০টি জরুরি চেক

এই লেখায় যা আছে (২৩)
- টেকনিক্যাল SEO কী, আর অন-পেজ SEO থেকে আলাদা কোথায়?
- চেক ১ থেকে ৪: Google কি আপনার সাইটে ঢুকতে পারছে?
- ১. Google Search Console যুক্ত আছে কি?
- ২. robots.txt কি ভুল করে কিছু আটকে রেখেছে?
- ৩. কোথাও ভুল noindex বসে আছে কি?
- ৪. HTTPS আর সাইটের একটাই ভার্সন
- চেক ৫ থেকে ৭: Google কি সঠিক পেজটা চিনছে?
- ৫. XML সাইটম্যাপ জমা দেওয়া আছে কি?
- ৬. canonical ট্যাগ ঠিক পেজ দেখাচ্ছে কি?
- ৭. ভাঙা লিংক আর রিডাইরেক্ট চেইন
- চেক ৮ থেকে ১০: পাঠক কি পেজটা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারছেন?
- ৮. মোবাইলে সব কনটেন্ট আছে কি?
- ৯. পেজ স্পিড আর Core Web Vitals
- ১০. ইন্টারনাল লিংক আর স্ট্রাকচার্ড ডেটা
- উদাহরণ: একটা নতুন ব্লগে ২০ মিনিটের অডিট
- নতুনদের সাধারণ ভুল, আর কখন কোনটা নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই
- এরপর কী করবেন
- সচরাচর জিজ্ঞাসা
- robots.txt ফাইল না থাকলে কি সমস্যা?
- প্রতিটা পোস্টে কি নিজে canonical ট্যাগ বসাতে হয়?
- টেকনিক্যাল SEO করতে কি কোডিং জানতে হয়?
- টেকনিক্যাল অডিট কত দিন পর পর করব?
- তথ্যসূত্র
সংক্ষেপে: টেকনিক্যাল SEO হলো সাইটের সেই কাঠামোগত কাজ, যাতে Google আপনার পেজ খুঁজে পায়, ক্রল করতে পারে, সঠিক ভার্সনটা ইনডেক্স করে আর পাঠক মোবাইলে দ্রুত পেজ দেখতে পান। নতুন সাইটে প্রথমে দেখুন robots.txt, ভুল noindex, HTTPS, সাইটম্যাপ, canonical, রিডাইরেক্ট, ভাঙা লিংক, মোবাইল, স্পিড আর ইন্টারনাল লিংক।
টেকনিক্যাল SEO কী, আর অন-পেজ SEO থেকে আলাদা কোথায়?
টেকনিক্যাল SEO হলো ওয়েবসাইটের অবকাঠামো এমনভাবে ঠিক রাখা, যাতে সার্চ ইঞ্জিন কোনো বাধা ছাড়া কনটেন্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে ও বুঝতে পারে। এটা কনটেন্ট ভালো করে না, কিন্তু ভালো কনটেন্ট যেন হারিয়ে না যায় সেটা নিশ্চিত করে।
একটা সহজ উদাহরণ: আপনি দারুণ একটা পোস্ট লিখলেন, কিন্তু থিমের একটা সেটিংয়ের কারণে পেজে noindex বসে আছে। তাহলে লেখা যত ভালোই হোক, Google সেটা সার্চে দেখাবে না। টেকনিক্যাল SEO এই ধরনের নীরব সমস্যা ধরার কাজ।
| ধরন | মূল প্রশ্ন | উদাহরণ কাজ |
|---|---|---|
| টেকনিক্যাল SEO | Google কি পেজটা পাচ্ছে, পড়তে পারছে, সঠিক URL ইনডেক্স করছে? | robots.txt, সাইটম্যাপ, canonical, রিডাইরেক্ট, স্পিড |
| অন-পেজ SEO | পেজটা কি সার্চারের প্রশ্নের সেরা উত্তর দিচ্ছে? | টাইটেল, হেডিং, কনটেন্ট, ইমেজ alt, ইন্টারনাল লিংকের অ্যাংকর |
| অফ-পেজ SEO | অন্যরা কি এই সাইটকে রেফারেন্স হিসেবে দেখছে? | ব্যাকলিংক, ব্র্যান্ড মেনশন |
পোস্ট লেখার সময়ের চেকগুলো আলাদা করে আছে আমাদের অন-পেজ SEO চেকলিস্টে। নিচের ১০টি চেক পুরো সাইটের জন্য, সাধারণত একবার ঠিক করলে মাঝে মাঝে মিলিয়ে নিলেই চলে।

চেক ১ থেকে ৪: Google কি আপনার সাইটে ঢুকতে পারছে?
১. Google Search Console যুক্ত আছে কি?
বাকি সব চেকের তথ্য আসবে এখান থেকে। সাইট ভেরিফাই করে Indexing > Pages রিপোর্টটা খুলুন, কয়টা পেজ ইনডেক্স হয়েছে আর কয়টা হয়নি, কারণসহ এখানে দেখা যায়। সেটআপ না করা থাকলে আগে পড়ুন Google Search Console সেটআপ ও রিপোর্ট পড়ার গাইড।
২. robots.txt কি ভুল করে কিছু আটকে রেখেছে?
robots.txt হলো সাইটের রুটে থাকা একটা টেক্সট ফাইল, যেটা ক্রলারকে বলে কোন URL এ ঢোকা যাবে আর কোনটায় যাবে না। ব্রাউজারে yoursite.com/robots.txt খুলে দেখুন। সবচেয়ে বিপজ্জনক লাইন হলো User-agent: * এর নিচে Disallow: /, এর মানে পুরো সাইট ক্রল করা নিষেধ।
একটা ভুল ধারণা ঠিক করে নিন: robots.txt দিয়ে পেজ সার্চ থেকে লুকানো যায় না। Google এর ডকুমেন্টেশন পরিষ্কার বলছে, robots.txt এ আটকানো পেজও অন্য সাইট থেকে লিংক পেলে ইনডেক্স হতে পারে। পেজ সার্চ থেকে সরাতে চাইলে noindex বা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন (Google Search Central, robots.txt পরিচিতি)।
৩. কোথাও ভুল noindex বসে আছে কি?
WordPress এ Settings > Reading এ গিয়ে “Search engine visibility” অংশে “Discourage search engines from indexing this site” টিক দেওয়া থাকলে পুরো সাইট noindex হয়ে যায়। ডেভেলপমেন্টের সময় এটা চালু করে পরে বন্ধ করতে ভুলে যাওয়া খুব সাধারণ ঘটনা। Rank Math বা Yoast এ ক্যাটাগরি, ট্যাগ বা পোস্ট টাইপ ধরে noindex সেটিংও একবার দেখে নিন।
৪. HTTPS আর সাইটের একটাই ভার্সন
http://, https://, www আর www ছাড়া, এই চারটা ঠিকানা লিখে দেখুন। চারটাই যেন একটা ফাইনাল ঠিকানায় 301 রিডাইরেক্ট হয়। না হলে Google একই কনটেন্টের একাধিক কপি দেখতে পারে।
চেক ৫ থেকে ৭: Google কি সঠিক পেজটা চিনছে?
৫. XML সাইটম্যাপ জমা দেওয়া আছে কি?
সাইটম্যাপ হলো সাইটের যেসব URL আপনি ইনডেক্স করাতে চান তার একটা তালিকা। WordPress নিজে /wp-sitemap.xml বানায়, আর Rank Math বা Yoast চালু থাকলে সাধারণত /sitemap_index.xml। এটা Search Console এর Indexing > Sitemaps এ জমা দিন।
দুইটা কথা মনে রাখুন। Google বলছে মোটামুটি ৫০০ পেজ বা তার কম, ভালোভাবে ইন্টারনাল লিংক করা সাইটের সাইটম্যাপ খুব জরুরি নয়, তবে নতুন সাইটের জন্য এটা কাজে লাগে কারণ বাইরের লিংক কম থাকে। আর সাইটম্যাপে থাকা মানেই ইনডেক্স হবে, এমন কোনো গ্যারান্টি নেই।
৬. canonical ট্যাগ ঠিক পেজ দেখাচ্ছে কি?
canonical ট্যাগ হলো পেজের <head> এ থাকা একটা লাইন, যেটা বলে একই বা প্রায় একই কনটেন্টের কয়েকটা URL এর মধ্যে কোনটা আসল। যেমন <link rel="canonical" href="https://example.com/blue-shoes/">।
এটা নির্দেশ নয়, শক্তিশালী ইঙ্গিত। Google রিডাইরেক্ট আর canonical দুটোকেই শক্তিশালী সংকেত, সাইটম্যাপকে দুর্বল সংকেত ধরে, আর শেষ সিদ্ধান্ত নিজে নেয়। URL Inspection টুলে “User-declared canonical” আর “Google-selected canonical” মিলিয়ে দেখুন। না মিললে বুঝবেন Google অন্য পেজকে আসল মনে করছে।
৭. ভাঙা লিংক আর রিডাইরেক্ট চেইন
পোস্টের URL বদলালে পুরনো URL থেকে নতুনটায় 301 দিন। Google এর ডকুমেন্টেশন অনুযায়ী 301 বা 308 হলে টার্গেট পেজকে canonical হওয়ার সংকেত দেয়, 302 বা 307 সেটা দেয় না। A থেকে B, B থেকে C, এমন চেইন থাকলে সরাসরি A থেকে C করে দিন। সাইটের ভেতরের যেসব লিংক 404 পেজে যাচ্ছে, সেগুলো ঠিক করুন।

চেক ৮ থেকে ১০: পাঠক কি পেজটা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারছেন?
৮. মোবাইলে সব কনটেন্ট আছে কি?
Google এখন ইনডেক্সিং আর র্যাঙ্কিংয়ের জন্য স্মার্টফোন ক্রলার দিয়ে সাইটের মোবাইল ভার্সন ব্যবহার করে। তাই মোবাইলে কোনো সেকশন, টেবিল বা স্কিমা লুকানো থাকলে Google সেটা না-ও দেখতে পারে। নিজের ফোনে সাইট খুলে দেখুন লেখা পড়া যায় কি, বাটন আঙুলে চাপা যায় কি, পাশে স্ক্রল হয় কি।
৯. পেজ স্পিড আর Core Web Vitals
Search Console এর Experience > Core Web Vitals রিপোর্টে আসল ব্যবহারকারীর ডেটা দেখা যায়। ট্রাফিক কম হলে সেখানে ডেটা না-ও থাকতে পারে, তখন PageSpeed Insights এ ল্যাব টেস্ট দিয়ে শুরু করুন। WordPress সাইটে কী কী ঠিক করবেন, সেটা ধাপে ধাপে আছে ওয়ার্ডপ্রেস স্পিড ও Core Web Vitals গাইডে।
১০. ইন্টারনাল লিংক আর স্ট্রাকচার্ড ডেটা
যে পেজে সাইটের অন্য কোনো পেজ থেকে লিংক নেই (অরফান পেজ), সেটা Google এর কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হতে পারে, আর খুঁজে পেতেও দেরি হয়। প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ পেজে অন্তত একটা প্রাসঙ্গিক পোস্ট থেকে লিংক দিন। স্কিমা ব্যবহার করলে Google এর Rich Results Test এ একবার যাচাই করে নিন, ভুল স্কিমা না থাকাই ভালো।
উদাহরণ: একটা নতুন ব্লগে ২০ মিনিটের অডিট
নিচের ডেটা পুরোপুরি উদাহরণ, কোনো বাস্তব সাইটের ফলাফল নয়। ধরুন ৩৫টি পোস্টের একটা রান্নার ব্লগ, Search Console এ Indexing > Pages খুলে দেখা গেল:
| যা পাওয়া গেল | সংখ্যা (উদাহরণ) | কারণ | সমাধান |
|---|---|---|---|
| Excluded by ‘noindex’ tag | ১২ | Rank Math এ ট্যাগ পেজ noindex | ইচ্ছাকৃত হলে কিছু করার নেই |
| Page with redirect | ৬ | http থেকে https রিডাইরেক্ট | স্বাভাবিক, শুধু সাইটম্যাপে https URL রাখুন |
| Not found (404) | ৩ | পুরনো পোস্টের slug বদলানো | নতুন URL এ 301 দিন |
| Duplicate without user-selected canonical | ২ | একই রেসিপি দুই URL এ | একটা রাখুন, অন্যটা 301 করুন |
এই অডিটের শিক্ষা হলো, “Not indexed” সংখ্যা দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রতিটা কারণ পড়ে আলাদা করুন কোনটা ইচ্ছাকৃত আর কোনটা ভুল। শুধু ভুলগুলো ঠিক করুন। নির্দিষ্ট পোস্ট ইনডেক্স না হলে কী করবেন, তা আলাদা করে আছে পোস্ট ইনডেক্স না হওয়ার কারণ ও সমাধান লেখায়।
নতুনদের সাধারণ ভুল, আর কখন কোনটা নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই
- Health score এর পেছনে দৌড়ানো: Ahrefs বা Semrush এর সাইট অডিট স্কোর ১০০ করা লক্ষ্য নয়। অনেক “warning” র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলে না। আগে ইনডেক্সিং আটকে দেয় এমন সমস্যা ঠিক করুন।
- ছোট সাইটে ক্রল বাজেট নিয়ে চিন্তা: Google এর ক্রল বাজেট গাইড মূলত ১০ লাখের বেশি পেজের সাইট, অথবা ১০ হাজারের বেশি পেজ আর প্রতিদিন বদলায় এমন সাইটের জন্য। শ-খানেক পোস্টের ব্লগে এটা প্রায় কখনো আসল সমস্যা নয়।
- robots.txt দিয়ে পেজ লুকানোর চেষ্টা: উপরে বলেছি, এতে কাজ হয় না, উল্টো Google noindex দেখতে পায় না।
- একসাথে দুইটা SEO বা দুইটা ক্যাশ প্লাগইন: দুইটা প্লাগইন একই সাথে canonical বা সাইটম্যাপ বানালে গোলমাল হয়। প্রতিটা কাজের জন্য একটা প্লাগইন রাখুন।
সাইট হাজার হাজার পেজের ই-কমার্স হলে, বা ফিল্টার আর প্যারামিটারে হাজারো URL তৈরি হলে, এই ১০টি চেক যথেষ্ট নয়। তখন ফ্যাসেটেড নেভিগেশন আর ক্রল নিয়ন্ত্রণ আলাদা করে দেখতে হয়।
এরপর কী করবেন
- আজই
yoursite.com/robots.txtখুলে দেখুনDisallow: /আছে কিনা, আর WordPress এর Settings > Reading এর টিকটা চেক করুন। - Search Console এ Indexing > Pages খুলে প্রতিটা “not indexed” কারণ ইচ্ছাকৃত না ভুল, দুই কলামে লিখে ফেলুন।
- আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি পেজ URL Inspection এ দিয়ে canonical মিলিয়ে নিন।
- NShamimPRO এর টেকনিক্যাল SEO কোর্সে আমরা robots.txt, 301 রিডাইরেকশন, SSL সমস্যা, ভাঙা লিংক, ডুপ্লিকেট টপিক পেজ আর স্ট্রাকচার্ড ডেটা আলাদা আলাদা ভিডিওতে স্ক্রিনে দেখাই, সাথে Ahrefs সাইট অডিটের বেসিক।
- চেকলিস্ট আকারে কাজ করতে চাইলে ফ্রি রিসোর্স পেজ থেকে চেকলিস্ট প্যাক নিয়ে নিন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
robots.txt ফাইল না থাকলে কি সমস্যা?
না। robots.txt না থাকলে Google ধরে নেয় সাইটের সব URL ক্রল করা যাবে। ফাইলটা দরকার তখন, যখন আপনি নির্দিষ্ট অংশে ক্রলার ঢোকা বন্ধ করতে চান বা সাইটম্যাপের ঠিকানা জানাতে চান।
প্রতিটা পোস্টে কি নিজে canonical ট্যাগ বসাতে হয়?
সাধারণত না। Rank Math বা Yoast প্রতিটা পেজে নিজের URL কে canonical হিসেবে বসিয়ে দেয়। হাতে বদলাতে হয় শুধু তখন, যখন একই কনটেন্ট ইচ্ছা করে একাধিক URL এ রাখছেন।
টেকনিক্যাল SEO করতে কি কোডিং জানতে হয়?
বেশিরভাগ WordPress সাইটে না। robots.txt, সাইটম্যাপ, canonical, রিডাইরেক্ট সবই প্লাগইন আর Search Console দিয়ে করা যায়। স্পিডের গভীর সমস্যা বা কাস্টম থিমের বাগ হলে ডেভেলপারের সাহায্য লাগতে পারে।
টেকনিক্যাল অডিট কত দিন পর পর করব?
ছোট ব্লগে মাসে একবার Search Console এর Pages আর Core Web Vitals রিপোর্ট দেখা যথেষ্ট। থিম বদল, হোস্ট বদল বা URL কাঠামো বদলের পর সাথে সাথে পুরো চেক করুন।
তথ্যসূত্র
- Google Search Central: Introduction to robots.txt, দেখা হয়েছে ২ অক্টোবর ২০২৬
- Google Search Central: How to specify a canonical URL, দেখা হয়েছে ২ অক্টোবর ২০২৬
- Google Search Central: Learn about sitemaps, দেখা হয়েছে ২ অক্টোবর ২০২৬
- Google Search Central: Redirects and Google Search, দেখা হয়েছে ২ অক্টোবর ২০২৬
- Google Search Central: Mobile-first indexing best practices, দেখা হয়েছে ২ অক্টোবর ২০২৬
- Google Search Central: Crawl budget management for large sites, দেখা হয়েছে ২ অক্টোবর ২০২৬
বিষয়: Technical SEO


