মূল কনটেন্টে যান
NShamimPRO Marketing through AI: ইতিহাস শুরু এখানেই

অন-পেজ SEO চেকলিস্ট: পোস্ট পাবলিশের আগে যা দেখে নেবেন

কাঠের ক্লিপবোর্ডে টিক দেওয়া তালিকা আর পাশে রাখা একটি পেনসিল
এই লেখায় যা আছে (১৮)
  1. অন-পেজ SEO কী, আর কোনটা এর মধ্যে পড়ে না?
  2. পাবলিশের আগে এক নজরে চেকলিস্ট
  3. টাইটেল ট্যাগ আর মেটা ডেসক্রিপশন কীভাবে লিখবেন?
  4. URL, H1 আর হেডিং কীভাবে সাজাবেন?
  5. কনটেন্ট কি সার্চকারীর প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে?
  6. ইন্টারনাল লিংক কেন দরকার, আর কীভাবে দেবেন?
  7. ছবি, স্কিমা আর বাইরের লিংক
  8. ছবির alt টেক্সট
  9. স্কিমা
  10. বাইরের লিংক
  11. পাবলিশের পর কী যাচাই করবেন?
  12. এরপর কী করবেন
  13. সচরাচর জিজ্ঞাসা
  14. Rank Math বা Yoast এর সবুজ স্কোর কি জরুরি?
  15. meta keywords ট্যাগ কি দিতে হবে?
  16. পুরনো পোস্টের টাইটেল বদলালে কি র‍্যাঙ্ক পড়ে যাবে?
  17. প্রতিটি পোস্টে কি ফোকাস কিওয়ার্ড একটাই হবে?
  18. তথ্যসূত্র

সংক্ষেপে: অন-পেজ SEO হলো পেজের ভেতরের যেসব জিনিস আপনি নিজে নিয়ন্ত্রণ করেন সেগুলো ঠিক করা: টাইটেল, মেটা ডেসক্রিপশন, URL, হেডিং, কনটেন্টের উত্তর, ইন্টারনাল লিংক, ছবির alt আর স্কিমা। পাবলিশের আগে মূল প্রশ্ন একটাই: পেজটা কি সার্চকারীর প্রশ্নের উত্তর অন্যদের চেয়ে পরিষ্কারভাবে দেয়, আর Google কি সহজে বুঝতে পারে পেজটা কী নিয়ে?

অন-পেজ SEO কী, আর কোনটা এর মধ্যে পড়ে না?

অন-পেজ SEO হলো একটা নির্দিষ্ট পেজের কনটেন্ট আর HTML এমনভাবে সাজানো, যাতে মানুষ ও সার্চ ইঞ্জিন দুজনেই সহজে বোঝে পেজটা কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়। কোনটা কোন ভাগে পড়ে তা জানলে সমস্যা খোঁজা সহজ হয়:

ভাগ উদাহরণ কে নিয়ন্ত্রণ করে
অন-পেজ টাইটেল, হেডিং, কনটেন্ট, ইন্টারনাল লিংক, ছবির alt, স্কিমা লেখক বা এডিটর, প্রতিটি পেজে
টেকনিক্যাল ক্রল, ইনডেক্স, সাইটম্যাপ, স্পিড, HTTPS, মোবাইল সাইট মালিক বা ডেভেলপার, পুরো সাইটে
অফ-পেজ অন্য সাইট থেকে লিংক, ব্র্যান্ডের উল্লেখ, রিভিউ পুরোপুরি আপনার হাতে নয়

এই চেকলিস্ট শুধু প্রথম সারির জন্য। সাইট লেভেলের সমস্যার জন্য টেকনিক্যাল SEO এর জরুরি চেকগুলো আলাদা করে দেখে নিন।

পাবলিশের আগে এক নজরে চেকলিস্ট

  1. পোস্টটা একটা মূল প্রশ্ন বা ইন্টেন্টের উত্তর দেয়, যা কিওয়ার্ড রিসার্চে ঠিক করেছেন।
  2. টাইটেলে মূল প্রশ্নের শব্দগুলো শুরুর দিকে আছে, আর সাইটে অন্য কোনো পেজের টাইটেলের সাথে মেলে না।
  3. মেটা ডেসক্রিপশন এই পেজের জন্য আলাদা করে লেখা, ১ থেকে ২ বাক্যে।
  4. URL ছোট, অর্থবোধক, ইংরেজি অক্ষরে।
  5. পেজে একটাই প্রধান শিরোনাম (H1), আর H2 গুলো পাঠকের প্রশ্নের মতো।
  6. প্রথম অনুচ্ছেদেই সরাসরি উত্তর।
  7. প্রথম ৫টি রেজাল্টের যা আছে আর আপনার নেই, তা যোগ করেছেন বা বাদ দেওয়ার কারণ জানেন।
  8. অন্তত দুটো সংশ্লিষ্ট পুরনো পোস্ট থেকে এই পোস্টে লিংক, আর এখান থেকে প্রাসঙ্গিক পোস্টে লিংক।
  9. লিংকের অ্যাঙ্কর টেক্সট বর্ণনামূলক, “এখানে ক্লিক করুন” নয়।
  10. প্রতিটি অর্থবহ ছবিতে বর্ণনামূলক alt টেক্সট, আর ছবির সাইজ কমানো।
  11. দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য উৎসের লিংক, আর লেখকের নাম ও পরিচয় দৃশ্যমান।
  12. প্রযোজ্য হলে স্কিমা, আর স্কিমার তথ্য পেজে দৃশ্যমান তথ্যের সাথে মেলে।

টাইটেল ট্যাগ আর মেটা ডেসক্রিপশন কীভাবে লিখবেন?

টাইটেল ট্যাগ হলো HTML এর <title> অংশ, যা থেকে Google সাধারণত সার্চ রেজাল্টের নীল লিংকটা বানায়। Google এর title link ডকুমেন্টেশন অনুযায়ী প্রতিটি পেজের টাইটেল হবে আলাদা, বর্ণনামূলক ও সংক্ষিপ্ত; একই শব্দ বারবার বসানো চলবে না। টাইটেলের কোনো নির্দিষ্ট অক্ষরসীমা নেই, তবে রেজাল্টে ডিভাইসের প্রস্থ অনুযায়ী কেটে দেখানো হয়। তাই মূল শব্দগুলো শুরুর দিকে রাখুন।

মনে রাখবেন, Google সবসময় আপনার টাইটেল হুবহু দেখায় না। পেজের H1, বড় শিরোনাম বা অন্য সাইটের অ্যাঙ্কর টেক্সট থেকেও টাইটেল লিংক বানাতে পারে। টাইটেল আর H1 এর বক্তব্য এক থাকলে এই সমস্যা কমে।

মেটা ডেসক্রিপশন সরাসরি র‍্যাঙ্কিং বাড়ায় না, তবে রেজাল্টে স্নিপেট হিসেবে দেখালে ক্লিকের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। Google বলেছে, পেজের লেখা থেকে নেওয়া অংশের চেয়ে মেটা ডেসক্রিপশন বেশি সঠিক মনে হলে তখন সেটা দেখায়। প্রতিটি পেজের জন্য আলাদা লিখুন, আর কিওয়ার্ডের তালিকা নয়, পেজে কী পাওয়া যাবে তা বলুন।

একটা উদাহরণ, পাঠের সুবিধার জন্য বানানো:

দুর্বল ভালো
টাইটেল টমেটো চাষ | টমেটো চাষ পদ্ধতি | ছাদে টমেটো ছাদে টবে টমেটো চাষ: মাটি, টব আর সময়ের পুরো নিয়ম
মেটা ডেসক্রিপশন টমেটো চাষ, ছাদে টমেটো, টবে টমেটো, টমেটো চাষের নিয়ম কোন মাপের টব, কোন মাটির মিশ্রণ আর কোন মাসে চারা লাগাবেন, মাসভিত্তিক টেবিলসহ ধাপে ধাপে জানুন।

URL, H1 আর হেডিং কীভাবে সাজাবেন?

  • URL: অর্থবোধক শব্দ দিয়ে ছোট রাখুন, যেমন /chade-tomato-chash/। বাংলা অক্ষরের URL শেয়ার করলে লম্বা এনকোডেড কোডে পরিণত হয়, তাই অনেকে ইংরেজি বা বাংলিশ স্লাগ ব্যবহার করেন। পাবলিশের পর URL বদলালে অবশ্যই পুরনো URL থেকে 301 রিডাইরেক্ট দিন।
  • H1: বেশিরভাগ WordPress থিম পোস্টের টাইটেলকেই H1 বানায়। তাই লেখার ভেতরে আবার H1 দেবেন না, H2 থেকে শুরু করুন।
  • হেডিং: H2 গুলো এমনভাবে লিখুন যেন শুধু হেডিং পড়েই পুরো লেখার কাঠামো বোঝা যায়। প্রশ্নের আকারে হেডিং পাঠক ও AI উত্তর ইঞ্জিন দুজনের জন্যই সহজ। Google জানিয়েছে হেডিংয়ের ক্রম র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলে না, তবে স্ক্রিন রিডার ব্যবহারকারীর জন্য ঠিক ক্রম দরকার।

কনটেন্ট কি সার্চকারীর প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে?

অন-পেজের সবচেয়ে বড় অংশ এটাই, আর এখানে কোনো প্লাগইন সাহায্য করে না। কিওয়ার্ডটা Google এ লিখে প্রথম ৫টি রেজাল্ট খুলুন। প্রতিটির সাবহেডিং আর গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদগুলো নোট করুন, তারপর দেখুন কোন প্রশ্ন বা তথ্য আপনার লেখায় নেই। NShamimPRO এর অন-পেজ SEO কোর্সের SEO অডিট লেসনে ঠিক এই পদ্ধতিতে একটা অডিট শিট দিয়ে কাজ করা হয়, দামি কনটেন্ট টুল না থাকলে ফ্রি Chrome এক্সটেনশন দিয়ে শব্দসংখ্যা ও সাবহেডিং মিলিয়ে।

শব্দসংখ্যা মেলানো লক্ষ্য নয়। Google এর helpful content নির্দেশিকা স্পষ্ট বলে, তাদের কোনো পছন্দের ওয়ার্ড কাউন্ট নেই। লক্ষ্য হলো কোনো প্রয়োজনীয় প্রশ্ন বাদ না পড়া, আর এমন কিছু যোগ করা যা অন্যদের নেই: নিজের অভিজ্ঞতা, নিজের তোলা ছবি, হিসাবের উদাহরণ, স্থানীয় দাম বা তথ্য। লেখকের অভিজ্ঞতা আর বিশ্বাসযোগ্যতা কীভাবে দেখাবেন, তা নিয়ে আলাদা লেখা আছে: E-E-A-T কী এবং ব্লগে কীভাবে দেখাবেন।

ইন্টারনাল লিংক কেন দরকার, আর কীভাবে দেবেন?

ইন্টারনাল লিংক হলো আপনার সাইটের এক পেজ থেকে অন্য পেজে দেওয়া লিংক। Google লিংক ধরে নতুন পেজ খুঁজে পায় এবং লিংককে পেজের প্রাসঙ্গিকতা বোঝার একটা সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে। তাই যে পেজে সাইটের কোথাও থেকে কোনো লিংক নেই (অরফ্যান পেজ), সেটা খুঁজে পাওয়া আর গুরুত্ব বোঝা দুটোই কঠিন।

  • নতুন পোস্ট পাবলিশ করে থেমে যাবেন না। একই বিষয়ের পুরনো ২ থেকে ৩টি পোস্টে গিয়ে নতুনটায় লিংক দিন।
  • অ্যাঙ্কর টেক্সট এমন হোক যা পড়েই বোঝা যায় ওপাশে কী আছে।
  • লিংক দিন যেখানে পাঠকের সত্যিই পরের প্রশ্ন আসে, তালিকা বানিয়ে শেষে গুঁজে দেবেন না।
  • লিংক হতে হবে সাধারণ <a href> ট্যাগে, যাতে Google সেটা ক্রল করতে পারে।

একটা পোস্টে কয়টা লিংক দেবেন তার কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা Google দেয় না। অন-পেজ কোর্সের ইন্টারনাল লিংক টপিকে অডিট, পদ্ধতি আর চেকলিস্টের পাশাপাশি AI দিয়ে ফ্রিতে লিংকের সুযোগ খোঁজার একটা প্রম্পটও দেওয়া আছে।

ছবি, স্কিমা আর বাইরের লিংক

ছবির alt টেক্সট

alt টেক্সট হলো ছবির লিখিত বর্ণনা, যা স্ক্রিন রিডার পড়ে আর Google ছবি বুঝতে ব্যবহার করে। Google এর উদাহরণে শুধু “puppy” দুর্বল, আর “Dalmatian puppy playing fetch” ভালো। একইভাবে “টমেটো” না লিখে লিখুন “ছাদের টবে পাকা চেরি টমেটো”। কিওয়ার্ড ঠেসে দেবেন না, আর শুধু সাজসজ্জার ছবিতে alt খালি রাখা যায়।

স্কিমা

স্কিমা বা স্ট্রাকচার্ড ডেটা হলো পেজের তথ্য মেশিনের পড়ার উপযোগী ফরম্যাটে জানানো। WordPress এ Rank Math বা Yoast এর মতো প্লাগইন সাধারণ Article স্কিমা নিজেই যোগ করে। রিভিউ স্কিমা দিলে সাবধান: Google এর নিয়মে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজের ব্যবসা সম্পর্কে নিজের সাইটে রিভিউ মার্কআপ দিলে স্টার রিভিউ দেখানোর যোগ্য হয় না, আর মার্কআপ করা রিভিউ পেজে দৃশ্যমান থাকতে হয়।

বাইরের লিংক

সংখ্যা, নিয়ম বা দাবির পক্ষে অফিশিয়াল উৎসের লিংক দিন। পাঠকের আস্থা বাড়ে, আর নিজের তথ্যও যাচাই হয়। পেইড বা স্পন্সর লিংকে rel="sponsored" ব্যবহার করুন।

পাবলিশের পর কী যাচাই করবেন?

  1. লাইভ পেজ মোবাইলে খুলে দেখুন টেবিল, ছবি আর লিংক ঠিক আছে কি না।
  2. Google Search Console এর URL Inspection এ URL দিয়ে Test live URL চালান। ইনডেক্সযোগ্য হলে Request indexing দিন।
  3. স্কিমা দিলে Google এর Rich Results Test এ পরীক্ষা করুন।
  4. কয়েক সপ্তাহ পর Performance রিপোর্টে দেখুন পেজটা কোন সার্চে ইমপ্রেশন পাচ্ছে। যে প্রশ্নে ইমপ্রেশন আছে কিন্তু লেখায় উত্তর দুর্বল, সেটা যোগ করুন। কীভাবে পড়বেন তা আছে Google Search Console গাইডে।

এরপর কী করবেন

  1. উপরের ১২ পয়েন্টের চেকলিস্টটা কপি করে প্রতিটি পোস্টের ড্রাফটের শেষে রাখুন।
  2. আপনার সবচেয়ে বেশি ইমপ্রেশন পাওয়া ৫টি পুরনো পোস্টে চেকলিস্টটা চালান, বিশেষ করে টাইটেল আর ইন্টারনাল লিংক।
  3. কোন প্রশ্নের জন্য পোস্ট লিখবেন তা পরিষ্কার না হলে আগে কিওয়ার্ড রিসার্চের ধাপগুলো দেখুন।
  4. একটা লাইভ সাইটে পুরো অন-পেজ, সাইটম্যাপ, পূর্ণ SEO অডিট, ইন্টারনাল লিংক আর স্কিমার কাজ ভিডিওতে দেখতে চাইলে অন-পেজ SEO কোর্স দেখতে পারেন। বেশিরভাগ লেসন আগের রেকর্ডিং, তাই প্লাগইনের স্ক্রিন এখন কিছুটা আলাদা হতে পারে। ফ্রি চেকলিস্টের জন্য ফ্রি রিসোর্স পেজ দেখুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

Rank Math বা Yoast এর সবুজ স্কোর কি জরুরি?

না। এই স্কোর প্লাগইনের নিজস্ব হিসাব, Google এর নয়। এটা টাইটেল বা মেটা ভুলে যাওয়া ধরতে কাজে লাগে, কিন্তু স্কোর বাড়াতে কিওয়ার্ড বারবার বসালে লেখা খারাপ হয়।

meta keywords ট্যাগ কি দিতে হবে?

না। Google তার SEO Starter Guide এ জানিয়েছে, তারা meta keywords ট্যাগ ব্যবহার করে না।

পুরনো পোস্টের টাইটেল বদলালে কি র‍্যাঙ্ক পড়ে যাবে?

কিছুদিন ওঠানামা হতে পারে, আর ফল ভালো বা খারাপ দুই দিকেই যেতে পারে। বদলের তারিখ লিখে রাখুন, কয়েক সপ্তাহ পর Search Console এ আগে-পরের ক্লিক ও পজিশন তুলনা করুন, আর টাইটেলের সাথে URL বদলাবেন না।

প্রতিটি পোস্টে কি ফোকাস কিওয়ার্ড একটাই হবে?

একটা মূল প্রশ্ন বা ইন্টেন্ট থাকা ভালো, তবে একই উত্তরের সম্পর্কিত শব্দ ও প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবে লেখায় আসবেই। সমস্যা হয় যখন একই ইন্টেন্টে সাইটে দুটো আলাদা পোস্ট থাকে।

তথ্যসূত্র

বিষয়: on page seo