মূল কনটেন্টে যান
NShamimPRO Marketing through AI: ইতিহাস শুরু এখানেই

ব্লগের নিশ কীভাবে বাছাই করবেন (ভুল নিশে সময় নষ্ট এড়াতে)

কাঁচা আমভরা গাছে একটি মাত্র পাকা সোনালি আম, নিচে বাঁশের ঝুড়ি
এই লেখায় যা আছে (১৯)
  1. নিশ বলতে আসলে কী বোঝায়?
  2. ভালো নিশ চেনার চারটি মাপকাঠি কী?
  3. নিশ ভ্যালিডেশন কীভাবে করবেন: ধাপে ধাপে
  4. ধাপ ১: ১০টি আইডিয়া লিখুন
  5. ধাপ ২: প্রতিটির জন্য কিওয়ার্ডের তালিকা
  6. ধাপ ৩: SERP দেখে প্রতিযোগিতা মাপুন
  7. ধাপ ৪: আয়ের পথ যাচাই
  8. ধাপ ৫: নম্বর দিন আর একটি বাছুন
  9. উদাহরণ: তিনটি নিশের তুলনা
  10. ব্রড নিশ নাকি মাইক্রো নিশ: কোনটা নেবেন?
  11. নিশ ঠিক হলে প্রথম ৩০টি লেখার পরিকল্পনা কীভাবে করবেন?
  12. কোন ভুলে নিশ বাছাইয়ে সময় নষ্ট হয়?
  13. এরপর কী করবেন
  14. সচরাচর জিজ্ঞাসা
  15. নিজের পছন্দের বিষয় নাকি লাভজনক বিষয়, কোনটা আগে?
  16. বাংলা ব্লগ নাকি ইংরেজি ব্লগ করব?
  17. নিশ বদলানো কি যায়?
  18. একটা নিশ কাজ করছে কিনা কতদিনে বুঝব?
  19. তথ্যসূত্র

সংক্ষেপে: সবার জন্য “সেরা নিশ” বলে কিছু নেই। ভালো নিশ হলো যেখানে চারটি জিনিস একসাথে মেলে: আপনি অন্তত ৫০টি কাজের লেখা লিখতে পারবেন, মানুষ সেগুলো সার্চ করে, সার্চ রেজাল্টে দুর্বল সাইটও র‍্যাঙ্ক করছে, আর আয়ের অন্তত একটি পথ আছে। ডোমেইন কেনার আগে ৩ থেকে ৫টি নিশ এই চার মাপকাঠিতে নম্বর দিয়ে যাচাই করুন।

নিশ বলতে আসলে কী বোঝায়?

নিশ হলো একটি নির্দিষ্ট বিষয় আর সেই বিষয়ে আগ্রহী একটি নির্দিষ্ট পাঠকগোষ্ঠী। “স্বাস্থ্য” কোনো নিশ নয়, এটা একটা বিশাল বাজার। “অফিসে বসে কাজ করা মানুষের পিঠব্যথা কমানোর ব্যায়াম” একটি নিশ, কারণ এখানে বিষয় আর পাঠক দুটোই পরিষ্কার।

নিশ যত পরিষ্কার, তত সহজে আপনি ঠিক করতে পারবেন কোন লেখা লিখবেন আর কোনটা লিখবেন না। Google ও পাঠক দুজনের কাছেই সাইটটা কী নিয়ে, তা বোঝা সহজ হয়। এটা টপিক্যাল অথরিটি গড়ার প্রথম ধাপ।

কাঠের টেবিলে খোলা নোটবুকে আঁকা ছোট মাইন্ড ম্যাপ, একটি বিষয়কে নির্দিষ্ট নিশে ভাগ করার মতো

ভালো নিশ চেনার চারটি মাপকাঠি কী?

মাপকাঠি যা প্রশ্ন করবেন কীভাবে যাচাই করবেন
জ্ঞান ও আগ্রহ আমি কি এই বিষয়ে ৫০টি কাজের লেখার শিরোনাম লিখতে পারি? ২০ মিনিটে শিরোনামের তালিকা বানান। ২০টির পর আটকে গেলে সাবধান।
চাহিদা মানুষ কি এগুলো সার্চ করে? কিওয়ার্ড টুল, Google Autocomplete, People also ask থেকে অন্তত ৩০টি কিওয়ার্ড বের করুন।
প্রতিযোগিতা প্রথম পাতায় কি দুর্বল পেজও আছে? ১০টি কিওয়ার্ড Google এ সার্চ করে দেখুন ফোরাম, Quora, Reddit বা ছোট ব্লগ র‍্যাঙ্ক করছে কিনা।
আয়ের পথ এই পাঠকদের থেকে টাকা আসবে কীভাবে? বিজ্ঞাপনদাতা আছে কিনা, অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্ট আছে কিনা, নিজের সার্ভিস বা প্রোডাক্ট বিক্রির সুযোগ আছে কিনা।

শুধু একটি মাপকাঠি ভালো হলে নিশ দাঁড়ায় না। চাহিদা বেশি কিন্তু প্রথম পাতায় শুধু বড় ব্র্যান্ড থাকলে নতুন সাইটের জায়গা কম। আবার প্রতিযোগিতা কম কিন্তু কেউ টাকা খরচ করে না এমন পাঠক হলে ট্রাফিক আসবে, আয় আসবে না।

নিশ ভ্যালিডেশন কীভাবে করবেন: ধাপে ধাপে

ধাপ ১: ১০টি আইডিয়া লিখুন

আপনার কাজ, পড়াশোনা, শখ আর যে বিষয়ে মানুষ আপনার কাছে পরামর্শ চায়, সেখান থেকে ১০টি আইডিয়া লিখুন। প্রতিটিকে “কোন পাঠক + কোন সমস্যা” আকারে লিখুন, শুধু একটা শব্দে নয়।

ধাপ ২: প্রতিটির জন্য কিওয়ার্ডের তালিকা

সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ৩ থেকে ৫টি আইডিয়া বাছাই করে প্রতিটির জন্য ৩০টির মতো কিওয়ার্ড বের করুন। প্রশ্নধর্মী লং-টেইল কিওয়ার্ড (কীভাবে, কেন, কোনটা ভালো) বেশি পেলে ভালো লক্ষণ। কিওয়ার্ড খোঁজার পদ্ধতি বিস্তারিত আছে কিওয়ার্ড রিসার্চ গাইডে।

কিওয়ার্ড খোঁজার সবচেয়ে সস্তা উৎস Google নিজেই। সার্চ বক্সে নিশের মূল শব্দ লিখে Autocomplete এর পরামর্শগুলো টুকে নিন, তারপর “People also ask” বক্সের প্রশ্নগুলো খুলে আরও প্রশ্ন বের করুন। ফেসবুক গ্রুপ, ফোরাম আর YouTube এর কমেন্টে মানুষ নিজের ভাষায় যে প্রশ্ন করে, সেগুলোও কিওয়ার্ডের ভালো উৎস, কারণ এগুলো টুলে প্রায়ই ধরা পড়ে না।

ধাপ ৩: SERP দেখে প্রতিযোগিতা মাপুন

প্রতিটি নিশের ১০টি কিওয়ার্ড ইনকগনিটো উইন্ডোতে সার্চ করুন। প্রথম ১০টি ফলাফলে ফোরাম থ্রেড, পুরনো পোস্ট, বা প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয় না এমন পেজ পেলে নোট করুন। এগুলো ইঙ্গিত দেয় যে ভালো উত্তর লিখে জায়গা নেওয়ার সুযোগ আছে। কম প্রতিযোগিতার কিওয়ার্ড বাছাইয়ের একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো Keyword Golden Ratio (KGR), তবে সেটাও একটা ইঙ্গিত, নিশ্চয়তা নয়।

ধাপ ৪: আয়ের পথ যাচাই

Google এ কয়েকটি কমার্শিয়াল কিওয়ার্ড (যেমন “সেরা”, “দাম”, “রিভিউ”) সার্চ করে দেখুন উপরে বিজ্ঞাপন দেখায় কিনা। বিজ্ঞাপন থাকা মানে কেউ এই পাঠকের জন্য টাকা দিতে রাজি। নিশে কোন বিজ্ঞাপনদাতা কেমন দাম দেয়, তা যাচাইয়ের পদ্ধতি আছে AdSense এ CPC ও নিশ যাচাই লেখায়।

ধাপ ৫: নম্বর দিন আর একটি বাছুন

চারটি মাপকাঠিতে ১ থেকে ৫ নম্বর দিন। সর্বোচ্চ মোট নম্বর পাওয়া নিশটি নিন, আর অন্যগুলো ফেলে দিন। একসাথে দুটি নিশে নতুন সাইট শুরু করলে দুটোই অর্ধেক মনোযোগ পায়।

উদাহরণ: তিনটি নিশের তুলনা

নিচের তথ্য কাল্পনিক, শুধু পদ্ধতি দেখানোর জন্য। কোনো বাস্তব ফলাফল নয়।

নিশ জ্ঞান ও আগ্রহ চাহিদা প্রতিযোগিতা (৫ = সহজ) আয়ের পথ মোট
ছাদবাগান ও টবের গাছ ৪ ৪ ৩ ৩ ১৪
ব্যক্তিগত ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড ২ ৫ ১ ৫ ১৩
অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছ পালন ৫ ৩ ৪ ৩ ১৫

এই উদাহরণে ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের নিশে বিজ্ঞাপনের দাম আর চাহিদা বেশি, কিন্তু জ্ঞান কম আর প্রতিযোগিতা খুব কঠিন। এটা টাকা ও স্বাস্থ্যের মতো “Your Money or Your Life” ধরনের বিষয়, যেখানে Google অভিজ্ঞতা আর বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণ বেশি খোঁজে (বিস্তারিত E-E-A-T লেখায়)। তাই কম নম্বর পাওয়া জায়গায় শুধু CPC দেখে ঝাঁপ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

শহরের ছাদে টবে সাজানো নানা রকম গাছ, উদাহরণের ছাদবাগান নিশের বাস্তব চেহারা

ব্রড নিশ নাকি মাইক্রো নিশ: কোনটা নেবেন?

মাইক্রো নিশ ব্রড নিশ
উদাহরণ টবে মরিচ চাষ বাগান ও কৃষি
টপিক্যাল অথরিটি গড়া দ্রুত, কম লেখায় অনেক লেখা লাগে
বাড়ার সুযোগ সীমিত, একসময় বিষয় ফুরায় অনেক
কার জন্য ভালো একা শুরু করছেন, সময় কম টিম বা নিয়মিত লেখক আছে

মাঝামাঝি পথটা অনেকের জন্য কাজ করে: একটি নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে শুরু করুন, কিন্তু ডোমেইন নাম এমন রাখুন যাতে পরে পাশের বিষয়ে বাড়ানো যায়। যেমন শুরু টবের সবজি দিয়ে, পরে ফুল ও ফলের গাছ।

নিশ ঠিক হলে প্রথম ৩০টি লেখার পরিকল্পনা কীভাবে করবেন?

নিশ বাছাইয়ের আসল পরীক্ষা হয় কনটেন্ট প্ল্যান বানাতে গিয়ে। ধাপ ২ এর কিওয়ার্ডগুলোকে ৩ থেকে ৫টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করুন। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে একটি বড় “পিলার” লেখা থাকবে, যা বিষয়টির পুরো ওভারভিউ দেয়, আর ৬ থেকে ১০টি ছোট লেখা থাকবে, যেগুলো একেকটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেয়। ছোট লেখাগুলো পিলারে লিংক করবে, পিলার ছোট লেখাগুলোতে।

কাল্পনিক উদাহরণ হিসেবে ছাদবাগানের নিশ নিন। ক্যাটাগরি হতে পারে: মাটি ও টব, সবজি চাষ, ফুলের গাছ, পোকামাকড় ও রোগ। “সবজি চাষ” ক্যাটাগরির পিলার হতে পারে “ছাদে সবজি চাষের পূর্ণ পরিকল্পনা”, আর ছোট লেখা হতে পারে “টবে টমেটো গাছে ফুল ঝরে যায় কেন”, “শীতে ছাদে কোন সবজি লাগাবেন”, “টবে লাউ গাছের মাচা কীভাবে বানাবেন”।

এভাবে সাজাতে গিয়ে যদি দেখেন একটি ক্যাটাগরিতে ৩টির বেশি লেখার বিষয় পাচ্ছেন না, তাহলে হয় ক্যাটাগরিটা বাদ দিন, নয়তো নিশটা আবার ভাবুন। আর যদি সহজেই ৩০টির বেশি শিরোনাম চলে আসে, সেটা ভালো লক্ষণ যে নিশে টপিক্যাল অথরিটি গড়ার মতো যথেষ্ট গভীরতা আছে। প্রথম লেখাগুলো সাধারণত কম প্রতিযোগিতার প্রশ্নধর্মী কিওয়ার্ড দিয়ে শুরু করা নিরাপদ, কারণ নতুন সাইটের জন্য সেখানে জায়গা পাওয়া তুলনামূলক সহজ।

কোন ভুলে নিশ বাছাইয়ে সময় নষ্ট হয়?

  • শুধু CPC বা ট্রাফিক দেখে নিশ বাছাই: Google এর নিজের helpful content গাইডে একটি আত্মজিজ্ঞাসা আছে: কোনো বিষয়ে আসল দক্ষতা ছাড়াই শুধু সার্চ ট্রাফিকের আশায় ঢুকেছেন কিনা। এমন সাইট সাধারণত টেকে না।
  • নিশ লিস্ট কপি করা: ইন্টারনেটের “৬০টি লাভজনক নিশ” ধরনের তালিকা হাজার জন একসাথে দেখে, ফলে সেখানে প্রতিযোগিতা আরও বাড়ে।
  • অনেক ভেবে শুরু না করা: NShamimPRO এর ব্লগিং লাইভ প্রজেক্টে রিসার্চ শিট থেকে একটা নিশ বেছে কাজ শুরু করে দিতে বলা হয়, কারণ শুরু না করলে আসল ডেটা আসে না।
  • মৌসুমি নিশ না বোঝা: শুধু ঈদ বা শীতকেন্দ্রিক বিষয় হলে বছরের অনেকটা সময় ট্রাফিক কম থাকবে। Google Trends এ ৫ বছরের গ্রাফ দেখে নিন।
  • ভাষার বাজার না ভাবা: বাংলা কিওয়ার্ডে প্রতিযোগিতা প্রায়ই কম, কিন্তু বিজ্ঞাপন ও অ্যাফিলিয়েটের বাজারও সাধারণত ছোট। ইংরেজিতে উল্টো। কোনটা আপনার জন্য ঠিক, তা নির্ভর করে আপনি কোন ভাষায় সত্যিকারের ভালো লিখতে পারেন তার ওপর।

একটা সীমাবদ্ধতাও স্বীকার করা দরকার: কোনো যাচাই পদ্ধতিই নিশ্চিত করতে পারে না যে নিশটা কাজ করবে। Google এর অ্যালগরিদম আর প্রতিযোগীরা বদলায়। যাচাই শুধু ঝুঁকি কমায়। ৩ থেকে ৬ মাস নিয়মিত লেখার পর Search Console এর ইমপ্রেশন ডেটা দেখেই আসল সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

এরপর কী করবেন

  1. আজই ১০টি নিশ আইডিয়া “পাঠক + সমস্যা” আকারে লিখুন।
  2. সেরা ৩টির জন্য ৩০টি করে কিওয়ার্ড আর ১০টি করে SERP যাচাই করুন।
  3. উপরের টেবিলের মতো নম্বর দিয়ে একটি নিশ বেছে নিন, তারপর ডোমেইন, হোস্টিং আর WordPress সেটআপ শুরু করুন।
  4. রিসার্চ শিট ব্যবহার করে নিশ ও AdSense কিওয়ার্ড রিসার্চ কীভাবে করা হয়, তা NShamimPRO এর Blogging (AdSense ও Ezoic) Live Project কোর্সের তিন পর্বের কিওয়ার্ড রিসার্চ ক্লাসে দেখানো হয়েছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

নিজের পছন্দের বিষয় নাকি লাভজনক বিষয়, কোনটা আগে?

দুটোই লাগে। পছন্দ না থাকলে কয়েক মাস পর লেখা থেমে যায়, আর আয়ের পথ না থাকলে ট্রাফিক আয়ে বদলায় না। যেখানে দুটো মেলে, সেখান থেকে শুরু করুন।

বাংলা ব্লগ নাকি ইংরেজি ব্লগ করব?

যে ভাষায় আপনি পাঠকের প্রশ্নের সবচেয়ে ভালো উত্তর লিখতে পারেন, সেটাই নিন। বাংলায় প্রতিযোগিতা সাধারণত কম কিন্তু বিজ্ঞাপনের আয়ও সাধারণত কম, ইংরেজিতে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি।

নিশ বদলানো কি যায়?

যায়, তবে একই ডোমেইনে সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়ে চলে গেলে আগের টপিক্যাল সিগন্যাল কাজে লাগে না। কাছাকাছি বিষয়ে বাড়ানো সহজ, পুরো দিক বদলালে নতুন সাইট ভালো।

একটা নিশ কাজ করছে কিনা কতদিনে বুঝব?

নিয়মিত লেখার ৩ থেকে ৬ মাস পর Search Console এ ইমপ্রেশন বাড়ছে কিনা দেখে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। এটা সাইট, প্রতিযোগিতা আর লেখার মানভেদে অনেক বদলায়।

তথ্যসূত্র

বিষয়: Blogging and Affiliate