ChatGPT বা Claude দিয়ে ব্লগ পোস্ট লেখার ধাপ: রিসার্চ থেকে এডিট পর্যন্ত

এই লেখায় যা আছে (১৫)
- কোন কাজ AI কে দেবেন, কোনটা নিজে করবেন?
- ধাপ ১: সার্চ ফলাফল দেখে রিসার্চ করবেন কীভাবে?
- ধাপ ২: আউটলাইনের সাথে প্রতিটি সেকশনের ইনপুট লিখুন
- ধাপ ৩: সেকশন ধরে লেখান, পুরো আর্টিকেল একবারে নয়
- ধাপ ৪: এডিটিং, যেখানে লেখা আপনার হয়ে ওঠে
- এডিটের আগে ও পরে: একটা ছোট উদাহরণ
- ধাপ ৫: ফ্যাক্ট-চেক আর পাবলিশ
- “AI লেখা মানুষের মতো করা” নিয়ে যা জানা দরকার
- এরপর কী করবেন
- সচরাচর জিজ্ঞাসা
- ফ্রি ChatGPT বা Claude দিয়ে কি এই পদ্ধতিতে লেখা যায়?
- বাংলায় সরাসরি লেখাব, নাকি ইংরেজিতে লিখিয়ে অনুবাদ?
- একটা পোস্ট লিখতে কত সময় লাগা উচিত?
- AI দিয়ে লেখা পোস্টে কি প্লেজিয়ারিজম হতে পারে?
- তথ্যসূত্র
সংক্ষেপে: ChatGPT বা Claude দিয়ে ভালো ব্লগ পোস্ট লিখতে এক প্রম্পটে পুরো আর্টিকেল চাইবেন না। পাঁচটা ধাপে কাজ করুন: সার্চ ফলাফল দেখে রিসার্চ, সেকশন ধরে আউটলাইন ও ইনপুট, প্রতিটি সেকশন আলাদা করে লেখানো, নিজের হাতে এডিট, আর পাবলিশের আগে প্রতিটি তথ্য যাচাই। AI খসড়া দেয়, অভিজ্ঞতা, বিচার আর দায় থাকে আপনার।
কোন কাজ AI কে দেবেন, কোনটা নিজে করবেন?
AI দ্রুত খসড়া আর বিকল্প দিতে পারে, কিন্তু সত্য যাচাই করতে পারে না, আপনার অভিজ্ঞতাও জানে না। কাজ ভাগ করার আগে এটা পরিষ্কার থাকা দরকার।
| কাজ | AI কতটা ভালো | আপনার ভূমিকা |
|---|---|---|
| টপিক আর টাইটেলের বিকল্প | ভালো | সার্চ ইনটেন্টের সাথে মিলিয়ে বাছাই |
| কম্পিটিটরের হেডিং গুছিয়ে তুলনা | ভালো, যদি আপনি হেডিং দেন | কী বাদ পড়েছে তা খোঁজা |
| সেকশনের প্রথম খসড়া | মাঝারি | নিজের ডেটা, উদাহরণ, মতামত যোগ |
| পরিসংখ্যান, দাম, তারিখ, নিয়ম | অনির্ভরযোগ্য, বানিয়ে ফেলতে পারে | মূল উৎসে গিয়ে প্রতিটি যাচাই |
| ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা | পারে না | পুরোটাই আপনার |
| গ্রামার আর বাক্য সহজ করা | ভালো | শেষবার জোরে পড়ে দেখা |
ধাপ ১: সার্চ ফলাফল দেখে রিসার্চ করবেন কীভাবে?
NShamimPRO এর কনটেন্ট কোর্সে রিসার্চ ধাপের একটা চেকলিস্ট আছে। মূল কিওয়ার্ডে Google সার্চ করে প্রথম কয়েকটা ফলাফলে আপনি দেখবেন:
- ফলাফলের ধরন: ব্লগ পোস্ট, প্রোডাক্ট পেজ, ভিডিও, নাকি ফোরাম।
- উপরে AI Overview বা featured snippet আছে কি না। থাকলে আপনার লেখায় শুরুতেই ছোট, সরাসরি উত্তর রাখতে হবে।
- টাইটেলে কী ধরনের শব্দ চলছে: উদাহরণ, ধাপ, সুবিধা, ধরন।
- প্রথম ৩ থেকে ৫টি পেজের H2 ও H3 হেডিং।
- কোথায় ডেটা, টেবিল, তালিকা বা নিজস্ব ছবি আছে, আর কোথায় নেই।
- কোন নতুন অ্যাঙ্গেল কেউ নেয়নি।
হেডিংগুলো কপি করে AI কে দিন, তারপর জিজ্ঞেস করুন কোন প্রশ্নগুলো সব পেজ কভার করেছে আর কোনগুলো কেউ করেনি। AI কে নিজে ওয়েব থেকে হেডিং আনতে বললে ভুল বা পুরনো তথ্য আসতে পারে, তাই নিজের চোখে দেখা ডেটা দেওয়াই নিরাপদ। কিওয়ার্ড বাছাইয়ের অংশটা নিয়ে আলাদা গাইড আছে: ফ্রি টুলে কিওয়ার্ড রিসার্চ।
ধাপ ২: আউটলাইনের সাথে প্রতিটি সেকশনের ইনপুট লিখুন
শুধু হেডিংয়ের তালিকা দিলে AI সাধারণ কথা লিখবে। কোর্সের পদ্ধতিতে প্রতিটি সেকশনের নিচে লিখে দেওয়া হয় সেখানে ঠিক কী থাকবে। নিচে একটা উদাহরণ, কিওয়ার্ড “অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করব কীভাবে” (উদাহরণ মাত্র):
- শুরু: দুই বাক্যে সরাসরি উত্তর, তারপর কার জন্য এই লেখা।
- ফ্রিল্যান্সিং কী: এক বাক্যের সংজ্ঞা, একটা দেশি উদাহরণ।
- কোন স্কিল দিয়ে শুরু: ৫টি স্কিলের টেবিল, শেখার সময় আর শুরুর কাজের ধরন। আমার নিজের মন্তব্য: [এখানে নিজের নোট]।
- পেমেন্ট কীভাবে আসে: শুধু অফিসিয়াল সূত্র থেকে যাচাই করা তথ্য; AI যেন নিজে ফি বা নিয়ম না বানায়।
- সাধারণ ভুল: ৫টি ভুল, প্রতিটির সাথে একটা বাস্তব দৃশ্য।
- FAQ: Google এর People also ask থেকে নেওয়া ৪টি প্রশ্ন।
এই ইনপুটগুলোই লেখার মান ঠিক করে। AI এর খসড়া কখনো আপনার দেওয়া ইনপুটের চেয়ে বেশি অনন্য হবে না।
ধাপ ৩: সেকশন ধরে লেখান, পুরো আর্টিকেল একবারে নয়
কোর্সের লেখার ধাপের চেকলিস্টে স্পষ্ট বলা আছে: এক ক্লিকে আর্টিকেল বানানোর টুল বা প্রম্পট ব্যবহার করবেন না, প্যাসেজ ধরে লেখান, আর সম্ভব হলে প্রতিটি প্যারাগ্রাফের জন্য নিজের ডেটা ও নির্দেশনা দিন। ফ্যাক্ট-চেক এই ধাপে নয়, এডিটিং ধাপে।
একটা সেকশনের জন্য প্রম্পটের কাঠামো এমন হতে পারে:
তুমি একজন অভিজ্ঞ বাংলা ব্লগ লেখক। পাঠক নতুন, বাংলাদেশে থাকেন।
সেকশন: "কোন স্কিল দিয়ে শুরু করবেন"
যা থাকবে: [আমার ইনপুট ও নোট]
নিয়ম: প্রথম বাক্যেই উত্তর। সহজ, কথ্য বাংলা, "আপনি"।
কোনো সংখ্যা, দাম বা নিয়ম নিজে বানাবে না; দরকার হলে [যাচাই করুন] লিখবে।
দৈর্ঘ্য: ১৫০ থেকে ২০০ শব্দ।
“নিজে বানাবে না, [যাচাই করুন] লিখবে” লাইনটা জরুরি। এতে এডিটের সময় কোথায় তথ্য বসাতে হবে তা চোখে পড়ে। ChatGPT আর Claude দুটোতেই এই পদ্ধতি কাজ করে; কোনটা আপনার বাংলার ধাঁচের সাথে বেশি মেলে, একই সেকশন দুটোতে লিখিয়ে তুলনা করে দেখুন। প্রম্পটের কাঠামো আরও ভালো করতে দেখুন প্রম্পট লেখার ফ্রেমওয়ার্ক।
ধাপ ৪: এডিটিং, যেখানে লেখা আপনার হয়ে ওঠে
কোর্সের এডিটিং চেকলিস্টে ১৫টি পয়েন্ট আছে, যা মানুষের লেখা আর AI এর লেখা দুটোর জন্যই। সবচেয়ে কাজের কয়েকটি:
- প্রথম ৫০০ শব্দের মধ্যে টপিক নিয়ে নিজের ছোট একটা অভিজ্ঞতা বা ঘটনা যোগ করুন, এক-দুই লাইন হলেও।
- AI ধাঁচের অপরিচিত বা কাঠখোট্টা শব্দ পেলে পুরো বাক্যটা নতুন করে লিখুন।
- একই শব্দের বারবার ব্যবহার আর অতিরিক্ত প্যাসিভ ভয়েস কাটুন, দুটোই AI লেখার সাধারণ লক্ষণ।
- যে বাক্য কেটে দিলে লেখার কোনো ক্ষতি হয় না, সেটা কেটে দিন।
- পুরোটা পড়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: পাঠকের কি আর কোনো প্রশ্ন বাকি থাকল?
- পুরো লেখা জোরে পড়ুন। আপনার মুখের কথার মতো না শোনালে আবার লিখুন।
এডিটের আগে ও পরে: একটা ছোট উদাহরণ
AI এর খসড়া (উদাহরণ): “ফ্রিল্যান্সিং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র, যার মাধ্যমে আপনি ঘরে বসে আয় করতে সক্ষম হবেন। এটি আপনার জীবনকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করতে পারে।”
এডিটের পর: “ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রথম কাজ পেতে সাধারণত সময় লাগে, কারণ নতুন প্রোফাইলে রিভিউ থাকে না। তাই শুরুতে ছোট কাজ নিয়ে রিভিউ জমানোই বেশিরভাগের জন্য বাস্তব পথ।”
দ্বিতীয় সংস্করণে বড় দাবি নেই, আয়ের প্রতিশ্রুতি নেই, আছে একটা কাজের তথ্য আর কারণ। এডিটিং মানে শুধু শব্দ বদলানো নয়, ফাঁপা দাবি সরিয়ে কাজের কথা বসানো।
বাংলায় AI অনেক সময় অনুবাদের মতো শোনায়: “এটি গুরুত্বপূর্ণ যে”, “আপনি করতে সক্ষম হবেন”। এগুলো সহজ কথ্য বাংলায় বদলান। এটা কোনো ডিটেক্টরকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য নয়, পাঠকের পড়ার আরামের জন্য।
ধাপ ৫: ফ্যাক্ট-চেক আর পাবলিশ
Google এর জেনারেটিভ AI কনটেন্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী পাবলিশের আগে সব AI কনটেন্ট হাতে ফ্যাক্ট-চেক করা জরুরি, এবং title, meta description, structured data, alt text ও যাচাই করতে হবে। বাস্তবে এর মানে:
- প্রতিটি সংখ্যা, দাম, নিয়ম আর উদ্ধৃতির পাশে মূল উৎস খুঁজে লিংক দিন। না পেলে বাক্যটা বাদ দিন বা “প্রায়” দিয়ে কারণসহ লিখুন।
- AI যদি কোনো “স্টাডি” বা “রিপোর্ট” এর নাম দেয়, সেটা আসলে আছে কি না খুঁজে দেখুন। বানানো উৎস AI এর খুব পরিচিত ভুল।
- টাইটেল আর meta description নিজে লিখুন বা AI এর ৩ থেকে ৫টি বিকল্প থেকে বাছুন। কোর্সের একটা লেসনে পুরো আর্টিকেল থেকে ৩২০ অক্ষরের মধ্যে একটা সারাংশ বানাতে বলার প্রম্পট দেখানো হয়, যেটা লেখার শুরুর সরাসরি উত্তর হিসেবেও কাজে লাগে।
- সংশ্লিষ্ট পুরনো পোস্টে ইন্টারনাল লিংক যোগ করুন।
- পাবলিশের আগের বাকি চেকগুলো অন-পেজ SEO চেকলিস্ট থেকে মিলিয়ে নিন।
“AI লেখা মানুষের মতো করা” নিয়ে যা জানা দরকার
অনেকে “humanizer” টুল দিয়ে AI লেখার শব্দ এলোমেলো করে detector স্কোর কমান। এতে দুটো সমস্যা। প্রথমত, এসব টুল প্রায়ই অর্থ বদলে দেয় বা ভুল বাক্য বানায়। দ্বিতীয়ত, Google detector স্কোর দেখে র্যাঙ্ক করে, এমন কিছু Google বলেনি; Google এর প্রশ্ন হলো কনটেন্ট মানুষের কাজে লাগে কি না। মানুষের মতো লেখার আসল উপায় হলো এমন কিছু যোগ করা যা শুধু মানুষই দিতে পারে: অভিজ্ঞতা, মতামত, স্থানীয় উদাহরণ, নিজের তোলা স্ক্রিনশট।
সীমাবদ্ধতাও সৎভাবে মেনে নিন। এই পদ্ধতিতে একটা ভালো পোস্টে সময় লাগে, এক প্রম্পটের চেয়ে অনেক বেশি। আর এত কিছুর পরেও র্যাঙ্কিংয়ের নিশ্চয়তা নেই; সেটা কম্পিটিশন, সাইটের বয়স আর অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। Google এর নীতি নিয়ে বিস্তারিত আছে AI কনটেন্ট কি Google এ র্যাংক করে লেখায়।
এরপর কী করবেন
- পরের পোস্টের জন্য একটা কিওয়ার্ড নিয়ে শুধু ধাপ ১ আর ২ করুন: প্রথম ৫টি ফলাফলের হেডিং আর সেকশন ধরে ইনপুট।
- একটা সেকশন ChatGPT আর Claude দুটোতে একই প্রম্পটে লিখিয়ে তুলনা করুন।
- এডিটিংয়ের সময় প্রতিটি সংখ্যার পাশে উৎসের লিংক না বসানো পর্যন্ত পাবলিশ করবেন না।
- রিসার্চ, লেখা, এডিটিং ও পাবলিশিংয়ের পুরো প্রসেস চেকলিস্ট সহ ভিডিওতে দেখতে NShamimPRO এর কনটেন্ট রাইটিং (AI সহ) কোর্স দেখুন; আর প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং ও AI আর্টিকেল রাইটিংয়ের মডিউল আছে AI SEO ও LLM মাস্টারক্লাসে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ফ্রি ChatGPT বা Claude দিয়ে কি এই পদ্ধতিতে লেখা যায়?
হ্যাঁ, মূল প্রসেসটা সাধারণ AI চ্যাট টুলেই করা যায়। ফ্রি সংস্করণে ব্যবহারের সীমা থাকতে পারে, আর সেই সীমা কোম্পানিগুলো সময়ের সাথে বদলায়।
বাংলায় সরাসরি লেখাব, নাকি ইংরেজিতে লিখিয়ে অনুবাদ?
বাংলায় সরাসরি লেখানো সাধারণত বেশি স্বাভাবিক শোনায়, কারণ অনুবাদে বাক্যের গঠন ইংরেজির মতো থেকে যায়। দুটোই একবার করে নিজের টপিকে তুলনা করে দেখুন।
একটা পোস্ট লিখতে কত সময় লাগা উচিত?
এর নির্দিষ্ট উত্তর নেই, টপিক আর আপনার অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে। তবে রিসার্চ, এডিট আর ফ্যাক্ট-চেকে লেখার চেয়ে বেশি সময় লাগলে সেটা স্বাভাবিক।
AI দিয়ে লেখা পোস্টে কি প্লেজিয়ারিজম হতে পারে?
পারে। AI মাঝে মাঝে পরিচিত লেখার খুব কাছাকাছি বাক্য দেয়, তাই পাবলিশের আগে একটা প্লেজিয়ারিজম চেক করে নেওয়া ভালো।
তথ্যসূত্র
- Guidance on using generative AI content on your website, Google Search Central, দেখা হয়েছে ২ অক্টোবর ২০২৬
- Creating helpful, reliable, people-first content, Google Search Central, দেখা হয়েছে ২ অক্টোবর ২০২৬
- Prompting best practices, Anthropic (Claude Docs), দেখা হয়েছে ২ অক্টোবর ২০২৬
বিষয়: Content


